ওয়াসিম জাফর

চট্টগ্রাম নগরের চাঁদগাঁও থানাধীন এক কিলোমিটারের নিজ বাসা থেকে দুদকের সাবেক কর্মকর্তা মোঃ শহিদুল্লাহকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশি হেফাজতে তার মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে তার পরিবারের পক্ষ থেকে। এই ঘটনায় অবহেলা জনিত কারণে পুলিশের দুই এসআইকে ক্লোজড করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) এম এ মাসুদ স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ তথ্য জানা যায়।
দুই সহকারী উপ-পরিদর্শক হলেন— মো. ইউসুফ আলী এবং এটিএম সোহেল রানা।
জানতে চাইলে সিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (পিআর) স্পিনা রানী প্রামাণিক চট্রলার কণ্ঠকে বলেন, ‘পুলিশ হেফাজতে ‘অসুস্থ হয়ে’ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক কর্মকর্তার মৃত্যুর ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে যাতে কোনো ধরনের প্রশ্নবিদ্ধ না হয়; সেজন্যই তদন্তের স্বার্থে তাদের (দুই এএসআই) সেখান থেকে সরিয়ে দামপাড়াতে সংযুক্ত করা হয়েছে।’
বুধবার (৪ অক্টোবর) পুলিশ হেফাজতে ‘অসুস্থ হয়ে’ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক কর্মকর্তার মৃত্যুর ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। এতে নগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর জোনের উপ-কমিশনারকে প্রধান করা হয়েছে। কমিটির অপর সদস্যরা হলেন— নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (উত্তর) এবং বিশেষ শাখার সহকারী কমিশনার।
সিএমপি কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায় তিন সদস্যের কমিটিকে তদন্ত করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, গত ৩ অক্টোবর রাতে নগরের চান্দগাঁও থানার এক কিলোমিটার এলাকার বাসা থেকে দুদকের অবসরপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহকে (৬৪) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হুমকি-ধমকি ও মানহানির অভিযোগে আদালতে দায়ের হওয়া একটি মামলায় পরোয়ানামূলে শহীদুল্লাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়েছিল পুলিশ। তাকে চান্দগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) কক্ষে বসানোর পর তিনি অসুস্থবোধ করতে থাকেন। হৃদরোগে আক্রান্ত শহীদুল্লাহ’র মুখে এ সময় ইনহেলার স্প্রে করেন তার সঙ্গে যাওয়া ছোট ভাই। তবে অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে শুরু করলে ছোট ভাইয়ের চাহিদা অনুযায়ী পুলিশ শহীদুল্লাহকে বেসরকারি পার্কভিউ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, শহীদুল্লার স্বজনদের দাবি— জমি নিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে তাদের বিরোধ ছিল। মামলার বিষয়ে তারা কিছু জানেন না। রাত ১১টার দিকে চান্দগাঁও থানার দুজন এএসআই গিয়ে শহীদুল্লাকে থানায় নিয়ে আসেন। সঙ্গে সঙ্গে স্বজনরা থানায় যান। উনি হার্টের পেশেন্ট; উনার ইনহেলার আর মেডিসিন লাগে সবসময়। তাকে থানায় নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফটক বন্ধ করে দেন। ইনহেলার ও মেডিসিনও তার কাছে পৌঁছাতে দেয়নি। পরে ১২টার দিকে শহীদুল্লাহকে হাসপাতালে নিয়ে গেছে।